পবিত্র রমজান মাসে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের কলেজ ক্যাম্পাসের শাবানা পার্কে ছেলে–মেয়ে শিক্ষার্থীরা একসাথে বসে আয়োজন করল সমবেত ইফতার।Azizul Haque College এ ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এই আয়োজন ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি করে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করছে তারা।
Azizul Haque College সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃশ্য তৈরি করছে সবাই মিলে,
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শাবানা পার্কে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কেউ নিয়ে আসে খেজুর, কেউ ফল, কেউবা বাড়িতে তৈরি ছোলা-মুড়ি কিংবা পিয়াজু। ছোট ছোট দলে বসে সবাই মিলে খাবার সাজাতে থাকে। আজানের আগে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইফতার। তাছাড়া আরো দোয়া মাহফিলের বাবস্থা করছেন তারা।
ছেলে–মেয়ে একসাথে এমন উন্মুক্ত পরিবেশে ইফতার করা শুধু বন্ধুত্বের বন্ধনকেই দৃঢ় করেনি, বরং পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার বার্তাও দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, পরিবার থেকে দূরে থেকে পড়াশোনা করার কারণে এমন আয়োজন তাদের মনে বাড়ির উষ্ণতার অনুভূতি এনে দেয়।
সামাজিক বন্ধনের শক্তি ও আয়োজন
শিক্ষার্থীদের মতে, রমজান শুধু আত্মসংযমের মাস নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসা ভাগাভাগির সময়। এই সমবেত ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে তারা দেখাতে চেয়েছেন—ক্যাম্পাস মানেই শুধু পড়াশোনা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ চর্চারও একটি ক্ষেত্র।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা সবাই মিলে ইফতার করছি—এটাই আমাদের জন্য বড় আনন্দ। এখানে ছেলে–মেয়ে ভেদাভেদ নেই, সবাই বন্ধু, সবাই সহপাঠী।”
ইতিবাচক বার্তা এবং একত্র শক্তি
বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে নিয়ে নানা সমালোচনা শোনা যায়। তবে এমন উদ্যোগ প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীরা চাইলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। এই আয়োজন কলেজের সামগ্রিক পরিবেশেও একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রমজানের এই পবিত্র মাসে আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও যেন এ ধরনের সম্প্রীতির আয়োজন অব্যাহত থাকে—এটাই সবার প্রত্যাশা